সারাদেশ

লেবাননে ড্রোন হামলায় নিহত দুই প্রবাসীর বাড়িতে শোকের মাতম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির বাড়ি সাতক্ষীরায়। ওখানে এখন শুধুই আহাজারি আর স্বজন হারানোর কান্না। সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর ও আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের দুই পরিবারেই চলছে শোকের মাতম। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিহতরা হলেন- সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৪০) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. নাহিদুল ইসলাম (২০)।

সোমবার (১১ মে) লেবাননের নাবাতিহ জেলার জেবদিন এলাকায় একটি বাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। একই হামলায় আরও একজন সিরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের সংবাদমাধ্যম।

বাংলাদেশ দূতাবাস বৈরুত এক শোকবার্তায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করেছে। দূতাবাস জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ১২টার দিকে নিজ আবাসস্থলে অবস্থানকালে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন তারা। বর্তমানে তাদের মরদেহ নাবাতিহের নাবিহ বেররী হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল থেকেই নিহত শফিকুল ইসলামের বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা অরবিন্দ বলেন, শফিকুল ইসলামের পরিবার খুবই দরিদ্র। ঋণ করেই তাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তার বাবা। এখন সেই বাবা ছেলের মরদেহ ফেরত পেতে আকুতি জানাচ্ছেন। বিদেশ থেকে মরদেহ আনার সামর্থ্যও তাদের নেই। সরকারের উদ্যোগে যেন মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

নিহত শফিকুল ইসলামের মেয়ে তামান্না আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা দুই বোন, আমাদের কোনো ভাই নেই। এখন আমরা কীভাবে চলব? আব্বু ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিল আমাদের ভালো রাখার জন্য। আমাদের শুধু দাবি, সরকার যেন দ্রুত আব্বুর মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করে। আমরা শেষবার আব্বুকে দেখতে চাই।

শফিকুল ইসলামের স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, আমার দুই মেয়ের পড়াশোনা আর সংসার ভালো রাখার জন্য ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিল। সেই সুখও আর সহ্য হলো না। আমি এখন কীভাবে বাঁচব? সরকার যেন আমার স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠিয়ে দেয়। ওর বাবার খুব ইচ্ছা ছিল দুই মেয়েকে ভালোভাবে বিয়ে দেবে। সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।

নিহত শফিকুল ইসলামের বাবা আফসার আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম সংসারে একটু সুখ আসবে বলে। এখন আমার ছেলে লাশ হয়ে ফিরছে। আমি শেষবার ছেলের মুখটা দেখতে চাই। সরকারের কাছে আকুতি- যেন দ্রুত আমার ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনে।

স্থানীয় ভালুকা চাঁদপুর কলেজের অধ্যক্ষ মোবাশ্বের হক বলেন, শফিকুল ইসলাম পরিবারকে সুখে রাখার আশায় প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ করে মাত্র তিন মাস আগে বিদেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই তার মৃত্যুসংবাদ এলো। পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় ও দরিদ্র।

অন্যদিকে আশাশুনির কাদাকাটি গ্রামেও একই শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহত নাহিদুল ইসলামের পরিবার ও স্বজনরাও মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

সাননিউজ/আরএ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতির নির্বাচনে রানা-বারী পরিষদ পূর্ণ প্যানেলে জয়ী

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জা...

মুন্সীগঞ্জ যুবদল নেতা সোহাগের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী ক...

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বই

মুখস্থনির্ভর পড়াশোনা থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভি...

গর্ভবতী নারীকে অবহেলা স্বজনদের, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত সন্তান প্রসব

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চ...

সুন্দরবনে ৩ দিনে ঘুরে গেলেন ৩ হাজার পর্যটক

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গা...

ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতির নির্বাচনে রানা-বারী পরিষদ পূর্ণ প্যানেলে জয়ী

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জা...

রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকা চায় বাংলাদেশ

মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজস্ব মাতৃভূমিতে...

রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকা চায় বাংলাদেশ

মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজস্ব মাতৃভূমিতে...

জাপানি বিদ্রোহী ঔপন্যাসিক রিউ মুরাকামি আর নেই

এক নজরে রিউ মুরাকামি ও তার সাহিত্যিক অবদান

সরকারের ভুলে নীরব থাকবে না বিরোধী দল : ডা. শফিকুর রহমান

বর্তমান সরকারের একের পর এক অনিয়ম, ভুল পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা