goodnews

ফসলি জমির বুক চিরে জেগেছে ‘হঠাৎ নদী’

হারুন উর রশিদ সোহেল, রংপুর থেকে:

রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর জংলার দোলা এলাকায় রাস্তার ব্রিজ ভেঙে হঠাৎ করে ফসলি জমির বুকে নতুন ‘নদী’ জেগে উঠেছে। নদীটির কোথাও কোমরপানি, কোথাও বা হাঁটুপানি। প্রায় ৪০ ফুট চওড়া এবং তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীর স্রোত গিয়ে মিশেছে পাশের ঘাঘট নদীতে। অনেকে মনে করছেন, অপরিকল্পিতভাবে ঘাঘট নদী ড্রেজিং করা এবং গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পানি জমেছে। এতে অতিরিক্ত পানি পথ খুঁজে নিয়ে নেমে যাচ্ছে ভাটির দিকে।

গ্রামবাসী কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি জানান, নদীটি যেখানে জেগে উঠেছে, এক সময় ঠিক সেখানেই নদী ছিল। কালের গর্ভে ওই নদী হারিয়ে গিয়েছিল। সেটিই আবার জেগে উঠেছে। ইসরাঈল (৬০) বলেন, ‘বাপ-দাদার কাছে শুনেছি, এখানে এক সময় নদী ছিল।’

কিন্তু ঠিক কতোকাল আগে সেখানে নদী ছিল, তা সঠিকভাবে কেউ বলতে পারেননি। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছেও এ সংক্রান্ত কোনো রেকর্ড নেই।

গত ২৯ জুলাই সকালে স্থানীয় কৃষকেরা আকস্মিকভাবে ওই নদী দেখে বিস্মিত হন। নতুন এ নদী দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকে নতুন নদীতে গোসলও করছেন। স্থানীয় লোকজনের অলৌকিক বলে মনে করে নদীটির নাম দিয়েছেন, ‘হঠাৎ নদী’।

স্থানীয় লোকজন জানান, সদর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী বেতগাড়ী ইউনিয়নের ধনতোলা বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের পানি এই পথ দিয়েই ঘাঘট নদীতে গিয়ে মেশে থাকে। খরায় ঘাঘট নদী পানিশূন্য থাকলেও বর্ষায় নদীটি পানিতে টইটম্বুর হয়ে পড়ে। তারা আরও জানান, অতিবৃষ্টির কারণে নদীতে পানির প্রচন্ড স্রোত থাকায় ও ঘাঘট নদী নতুন করে ড্রেজিং করায় উজানের তিন কিলোমিটার এলাকা ভেঙে গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। এভাবেই গত এক সপ্তাহে নতুন এ নদীর জন্ম। নদীটির পেটে গেছে অন্তত ১০০ বিঘা জমি। এতে আউশ ধান ও পাটসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রাহগীর আল মাহী সাদ এরশাদ বলেন, ‘আমি ওই এলাকা পরিদর্শন করবো। ফসল ও জমি হারানো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেওয়া হবে।’

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববি বলেন, ‘আমি নতুন ওই নদীর খবর শুনেছে। দ্রুত পরিদর্শনে যাবো। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান, উজানে নতুন নতুন এলাকা ভেঙে নদী আরও দীর্ঘ হচ্ছে। কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় এ নদী বা খালের সৃষ্টি হয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, সেখানে নদী থাকার কোনো রেকর্ড তাদের কাছে নেই। নিচু হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। এতে ভাটির দিকে পানির প্রচণ্ড চাপ থাকে। পানির প্রবল চাপে ফসলি জমি ভেঙে জলাধারে পরিণত হয়েছে।

সান নিউজ/ এআর

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতির নির্বাচনে রানা-বারী পরিষদ পূর্ণ প্যানেলে জয়ী

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জা...

মুন্সীগঞ্জ যুবদল নেতা সোহাগের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী ক...

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বই

মুখস্থনির্ভর পড়াশোনা থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভি...

সুন্দরবনে ৩ দিনে ঘুরে গেলেন ৩ হাজার পর্যটক

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গা...

গর্ভবতী নারীকে অবহেলা স্বজনদের, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত সন্তান প্রসব

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চ...

ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতির নির্বাচনে রানা-বারী পরিষদ পূর্ণ প্যানেলে জয়ী

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জা...

রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকা চায় বাংলাদেশ

মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজস্ব মাতৃভূমিতে...

রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকা চায় বাংলাদেশ

মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজস্ব মাতৃভূমিতে...

জাপানি বিদ্রোহী ঔপন্যাসিক রিউ মুরাকামি আর নেই

এক নজরে রিউ মুরাকামি ও তার সাহিত্যিক অবদান

সরকারের ভুলে নীরব থাকবে না বিরোধী দল : ডা. শফিকুর রহমান

বর্তমান সরকারের একের পর এক অনিয়ম, ভুল পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা