উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও অপ্রতিরোধ্য বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার নতুন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। সেনাসদস্যদের নিবিড় প্রশিক্ষণ এবং প্রতিটি সামরিক ইউনিটকে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য শতভাগ প্রস্তুত রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এমন সময়ে এই সামরিক উচ্চাভিলাষের কথা সামনে এল, যখন প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দেশটির সীমান্ত বিরোধ চরমে পৌঁছেছে।
পিয়ংইয়ংয়ে আয়োজিত সেনাবাহিনীর কোম্পানি কমান্ডারদের দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ সম্মেলনে এই নির্দেশ দেন কিম জং উন। কোরীয় রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে ক্ষমতাসীন দলের কংগ্রেসের পর সামরিক বাহিনীকে নিয়ে এটিই ছিল তার সবচেয়ে বড় কোনো আনুষ্ঠানিক সমাবেশ।
ওই সম্মেলনে কিম প্রচলিত সামরিক শক্তির পাশাপাশি দেশের পারমাণবিক অস্ত্রাগার ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আধুনিকায়ন আরও ত্বরান্বিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন।
সম্মেলনে ‘কোরীয় ধাঁচের সামরিক বিপ্লব’ সাধনের ডাক দিয়ে কিম জং উন জানান, সামরিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রতিটি কোম্পানিকে নিখুঁত ও দক্ষ যুদ্ধ ইউনিটে রূপান্তর করতে হবে। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া বেশ কিছু আধুনিক অস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছে।
এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন নির্ভুল লক্ষ্যভেদী টর্পেডো এবং অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শত নিষেধাজ্ঞা ও কড়াকড়ি উপেক্ষা করে পিয়ংইয়ং তাদের পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে অনড় রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা
উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক শক্তির মহড়ার মধ্যেই দুই কোরিয়ার মধ্যকার সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) ভয়াবহ বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার বেশ কয়েকজন সেনা গুরুতর আহত হন।
সিউলের দাবি, উত্তর কোরিয়ার পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন থেকেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে পিয়ংইয়ং এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমা চাওয়ার দাবিও পাত্তায় দেয়নি।
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করতে এবং যোগাযোগ মাধ্যম সচল রাখতে গতকাল শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার কাছে সামরিক আলোচনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠায় দক্ষিণ কোরিয়া। তবে এই প্রস্তাবের বিষয়ে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের ধ্বংসাত্মক কোরিয়ান যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তি হলেও আজ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
সান নিউজ / রাজীব