জাতীয়

গণভবনে বন্দি জীবন প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে গণভবনে একরকম বন্দি জীবন-যাপন করছি। আমার বাইরে যাওয়া নিষেধ। তাই কোন অনুষ্টানে শারীরিকেভাবে উপস্থিত থাকতে পারিনা। তাই আজকের অনুষ্ঠানেও ভার্চুয়ালি হাজির হয়েছি।

তিনি বলেন, আমার ছোট বোন রেহানা যখন লন্ডনে থাকে তখন সে অনলাইনে নিয়মিত পত্রিকা পড়ে এবং কারও কোনো কষ্ট দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে খবর পাঠায়। আমি চেষ্টা করি ব্যবস্থা নিতে।

রোববার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। এদিন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ পুরস্কার ও সম্মাননা জয়ীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাসের কারণে গণভবনে একরকম বন্দি জীবন-যাপন করার কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আমার বাইরে যাওয়া নিষেধ। সেকারণে এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধায় অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিচ্ছি। আজ বাংলাদেশ ডিজিটাল হয়েছে বলে এটা সম্ভব হচ্ছে। এটা না হলে এইটুকু সুযোগ পেতাম কিনা সন্দেহ। আমারও একটা দুঃখ থেকে গেল; আমি নিজে উপস্থিত থেকে পুরস্কার দিতে পারলাম না। আশা করি করোনাভাইরাস থেকে দেশ মুক্তি পাবে। আবার সকলে আমরা এক হতে পারব। সেই দিনটির অপেক্ষায় রইলাম।

চলচ্চিত্র শিল্পে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে বাঙালি সিনেমা শিল্প করবে- এটা পাকিস্তানি শাসকরা কখনও চাইতো না। তারা এটা নিয়ে অনেক ব্যাঙ্গও করত। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সঙ্গে আমাদের সিনেমা শিল্প, শিল্পী ও সাহিত্যিক সবার ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল।

আমি ছোটবেলা থেকেই দেখেছি, অনেকেই আমাদের বাসায় সবসময় আসা যাওয়া করতেন এবং বাবার সঙ্গে অনেকের গভীর বন্ধুত্ব ছিল। বঙ্গবন্ধু তাদের বলেছিলেন, কি রে তোরা পারবি না সিনেমা বানাতে? সেই থেকেই যাত্রা শুরু।

স্বাধীনতার পর চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে জাতির পিতার বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। শেখ হাসিনা বলেন, সত্যি কথা বলতে কি আমাদের দেশের মানুষের বিনোদনের তেমন কোনো সুযোগ নেই। এই সিনেমাটাই তাদের বিনোদনের সুযোগ। আর জাতির পিতা দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাটা বুঝতেন। তিনি তো মানুষের জন্যই তার জীবনটা দিয়ে গেছেন। তার সেই অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করাই আমাদের দায়িত্ব।

১৫ই আগস্ট নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনটাই পাল্টে দিল। তারপর থেকে বাংলাদেশে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব ও আদর্শটাই নষ্ট হল। আমরা যে বাঙালি, সেই বাঙালির সংস্কৃতি চেতনাটাও নষ্ট হতে বসেছিল। কিন্তু আমরা যখন থেকে সরকারে এসেছি তখন থেকে উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা অনেকগুলো কাজ করেছি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০২০ করে দিচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেখেছি, অনেক শিল্পীর আমাদের বাসায় অবাধ যাতায়াত ছিল। এমনকি ধানমন্ডি লেকের সামনে যখন শ্যুটিং হতো তখন সবাই আমাদের বাসায় এসেই বসতো, চা-পানি খেত। মা সবাইকে আপ্যায়ন করতেন। আমাদের সবাই সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে ভালোভাবে জড়িত ছিল। আমার ছোট ভাই শেখ কামাল নাটক করতো। নাট্য মঞ্চে তার বেশ ভালো ভূমিকা ছিল। আমাদের বাসার সকলে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চা সম্পৃক্ত ছিল।

চলচ্চিত্র শিল্পী ও কলাকুশলীদের আর্থিক দুরবস্থা বা সংকটে পড়ার দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আমি আছি, এখন হয়তো সহযোগিতা করে যাচ্ছি। কিন্তু আমি যখন থাকব না তখন কী হবে? তাই সেই চিন্তা থেকেই চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট করে দিচ্ছি। এই ট্রাস্ট আইনটা আমরা পার্লামেন্টে পাস করব। এরপর আমরা সরকারের পক্ষ থেকে একটা সিড মানিও দেব। সেইসঙ্গে আমরা চাইব যে, যারা চলচ্চিত্রের সঙ্গে আছেন তারাও অর্থের জোগান দেবেন। বিপদ-আপদে শিল্পী-কলাকুশলীরা যাতে এই ট্রাস্ট থেকে অনুদান নিতে পারে। এমনকি চিকিৎসা থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজ যেন করতে পারেন- সেই লক্ষ্য নিয়েই এই ট্রাস্টটা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

চলচ্চিত্র আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের বিনোদনের একমাত্র জায়গা দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিন্তু সেই চলচ্চিত্রটা আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যদি এগুলো তৈরি করা না হয় তাহলে কিন্তু ওই আকর্ষণটাও থাকবে না। এমনকি মার্কেটও পাওয়া যাবে না। সেকারণে এফডিসিকে উন্নত করার জন্য একটা প্রোজেক্ট বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। সেখানেও অনেক টাকা লাগছে। আর কবিরহাটে যে জায়গাটা জাতির পিতা দিয়ে গিয়েছিলেন, সেটাকেও শ্যূটিংয়ের জন্য উপযুক্ত আধুনিক জায়গা হিসেবে তৈরি করছি।

তিনি বলেন, এক হাজার কোটি টাকার একটা ফান্ড তৈরি করব। অল্প সুদে এখান থেকে টাকা নিয়ে সিনেমা হল বা সিনেপ্লেক্স তৈরি করা যাবে। যেখানে একেকটি অঞ্চলের মানুষের বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। কারণ অনেকগুলো সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন অনেক উন্নত মানের সিনেমা তৈরি করা যায়। সেইদিকেই আমরা একটু বিশেষ করে দৃষ্টি দিচ্ছি।

বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটিকে উন্নত করে তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এফডিসির ওখানে কারওয়ান বাজার। এটি একটি হোল সেল মার্কেট। তবে ঢাকার হোল সেল মার্কেট আমরা বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যেতে চাচ্ছি। এখানে হয়তো কিছু থাকবে। কিন্তু মূলটা আমরা সরিয়ে নেব। হাতিরঝিল হওয়াতে এফডিসির গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। তাই এই জায়গাটাকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই। সেখানে তিনশ কোটি টাকার একটা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ঐতিহ্যগুলো রক্ষা করতে হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে ফিল্ম আর্কাইভের মাধ্যমে পুরনো সিনেমাগুলো পুনরুদ্ধারে কাজ করতে হবে। কারণ সিনেমা শিল্পেও ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কাজ করে যাচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন,প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করতে চাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আর দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতি করা। আমরা সেদিকে লক্ষ্য রেখেই ব্যবস্থা নিয়েছি।

সান নিউজ/এমআর/এস

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

বিচ কার্নিভালের উন্মাদনায় মুখর কুয়াকাটা

পূজার ছুটির রেশ কাটতে না কাটতেই কুয়াকাটায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী বিচ কার্নি...

রাজধানীর বাজারে ছুটির আমেজ, মুরগির দামে ঝাঁজ, ডিমে মিলছে স্বস্তি

পূজার ছুটির আবহ এখনো কাটেনি রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে। অনেক স্থানে ক্রেতার উপস্...

ইরানের সরকার বদলাতে চায় ইসরায়েল, বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবারও ইরানের সরকার পরিবর্তনের কথ...

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শাহেদের মরদেহ দেশে

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশি প্রবাসী মো. শাহেদ আহম্মদ...

এএফসির সমর্থনে শক্ত অবস্থানে ইনফান্তিনো

ফিফা সভাপতির আসনে আরও এক মেয়াদ থাকার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পেলেন জিয়ান্ন...

ইনানীর ট্র্যাজেডির ছয় দিন পর ফের আতঙ্ক

কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা...

গিটারের সুর থামিয়ে না ফেরার দেশে রাসেল খান

বাংলাদেশের সংগীত অঙ্গনের পরিচিত গিটারবাদক রাসেল খান আর নেই। দীর্ঘ তিন দশকেরও...

জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গাপূজায় প্রশংসা, সামনে নতুন পরীক্ষার মুখে সরকার

জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সরকারি সহযোগিতার মধ্য দি...

এএফসির সমর্থনে শক্ত অবস্থানে ইনফান্তিনো

ফিফা সভাপতির আসনে আরও এক মেয়াদ থাকার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পেলেন জিয়ান্ন...

পদোন্নতি পেলেন হাসনাত-সারজিস-আসিফ-নাসীরুদ্দীন

সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করেছে জাতীয় ন...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা