জাতীয়
সানেমের জরিপ

দেশে দারিদ্র্যের হার ৪২ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাস মহামারি দীর্ঘ সময় অবস্থানের ফলে দেশের সার্বিক দারিদ্র্যের হার বেড়ে হয়েছে ৪২ শতাংশ। তুলনামূলক বেশি দরিদ্র্য মানুষের বসবাস রংপুর বিভাগে। করোনার প্রভাবে দেশে দরিদ্র্য মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আয় বৈষম্যও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

শনিবার ( ২৩ জানুয়ারি) দারিদ্র্য ও জীবিকার ওপর করোনা মহামারির প্রভাব : সানেমের দেশব্যাপী জরিপের ফলাফল শিরোনামের একটি ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং’ (সানেম) এর জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সংস্থার হিসাবে করোনার এই সময়ে মাথাপিছু গড় শিক্ষাব্যয় কমলেও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য খাতে খরচ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ওয়েবিনারে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

ওয়েবিনারের আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।

দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে, আয় কমেছে ৫৫.৯ ভাগ পরিবারের : জরিপের ফলাফল উপস্থাপনের সময় ড সেলিম রায়হান বলেন, এই জরিপের মূল উদ্দেশ্য ছিলো করোনা পূর্ববর্তী সময়ের সঙ্গে করোনা পরবর্তী সময়ে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও কর্মসংস্থানের স্বরূপ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া।

২০১৮ সালে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সঙ্গে সানেমের করা জরিপের মধ্যে থেকে ৫৫৭৭টি খানার ওপর এই জরিপ ফোন কলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সারা দেশব্যাপী এই জরিপ ২০২০ সালের ২ নভেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ২০২০ সালের শেষ দিকে দেশের দারিদ্র্যের হার পাওয়া গেছে ৪২ শতাংশ। ২০১৮ সালে জিইডি-সানেমের জরিপে যা ছিলো ২১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০১৬ সালের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা জরিপ অনুসারে দারিদ্র্য হার ছিল ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

করোনাকালে নতুন করে দরিদ্র বেড়েছে দেড় কোটিরও বেশি মানুষ : বিবিএসর খানা জরিপ অনুসারে ২০১৬ সালে গ্রামাঞ্চলের সার্বিক দরিদ্র্য ছিলো ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ, ২০১৮ সালের জিইডি সানেম জরিপ অনুসারে যা ছিলো ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ, করোনাকালীন ২০২০ সালে এই হার বেড়ে হয়েছে ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ। শহরাঞ্চলে সার্বিক দারিদ্র্যের হার ২০১৬ সালে ছিলো ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০১৮ সালে ছিলো ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ আর ২০২০ সালে এই হার বেড়ে হয়েছে ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

চরম দারিদ্র্যের হারের (লোয়ার পোভার্টি রেট) ক্ষেত্রে ২০১৬ সালে বিবিএসর খানা জরিপ অনুসারে এই হার ছিলো জাতীয়ভাবে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে ২০২০ সালে মহামারির প্রভাবে এই হার বেড়ে হয়েছে ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলে চরম দারিদ্র্যের হার এখন ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ। শহরাঞ্চলে চরম দারিদ্র্যের হার বেড়ে হয়েছে ১৯ শতাংশ।

২০২০ সালে সার্বিক দারিদ্র্যের হার বরিশালে ছিলো ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ, ঢাকায় ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ, খুলনায় ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৪৬ দশমিক ২ শতাংশ, রাজশাহীতে ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ, রংপুরে ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সিলেটে ৩৫ শতাংশ।

প্রাক-করোনা এবং করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে জাতীয় পর্যায়ে অসমতার তুলনা করার জন্য গিনি সহগ ব্যবহার করা হয়েছে। গিনি সহগ ২০১৮ সালে ছিল শূন্য দশমিক ৩১ এবং ২০২০-এ বেড়ে শূন্য দশমিক ৩২ হয়েছে। ২০১৮ এবং ২০২০ সালের মধ্যে মাথাপিছু গড় শিক্ষাব্যয় হ্রাস পেয়েছে। তবে গড় মাথাপিছু স্বাস্থ্যব্যয় বেড়েছে, মধ্যম দরিদ্র (৯৭%) এবং অ-দরিদ্র (১০৪%) পরিবারের জন্য এটি সবচেয়ে বেশি।

এই গবেষণায় অনলাইন (টিভি, ইন্টারনেট ইত্যাদি) শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও পর্যালোচনা করা হয়। গ্রামাঞ্চলের ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং শহরাঞ্চলের ২৭শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে।

উত্তরদাতারা অনলাইন শিক্ষায় অংশ নিতে না পারার কারণ হিসাবে অনলাইন ক্লাসের অপ্রাপ্যতা (৪৯.১%), প্রয়োজনীয় ডিভাইসের অপ্রাপ্যতা (৬.১%), ডিভাইসের অপ্রতুলতা (৫.৩%), ইন্টারনেট সংযোগের অপর্যাপ্ততা (৫.৪%), ইন্টারনেট সংযোগের ব্যয় বহন করতে অক্ষমতার (৬.৫%) কথা উল্লেখ করেছেন ।

মহামারির ফলে কাজ হারানো, পারিশ্রমিক না পাওয়া, কর্মক্ষেত্র বন্ধ হওয়াসহ বিভিন্ন কর্মসংস্থান-সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কেবল ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবারের দাবি ছিল যে তাদের সদস্যরা আগের মতো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পেরেছে।

৫৫ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার দাবি করেছেন যে কাজ থাকা সত্ত্বেও তাদের আয় হ্রাস পেয়েছে, ৮ দশমিক ৬ শতাংশ দাবি করেছে যে তারা কাজ হারিয়েছে। জরিপে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে, সব ধরনের কর্মসংস্থানে গড় আয় হ্রাস পেয়েছে, যা স্ব-নিযুক্তদের জন্য ৩২ শতাংশ, বেতনভিত্তিক কর্মীদের জন্য ২৩ শতাংশ, দিনমজুরের জন্য ২৯ শতাংশ এবং অন্যদের জন্য ৩৫ শতাংশ।

তবে সঙ্কট মোকাবেলার জন্য তারা বিভিন্ন ধরণের কৌশল অবলম্বল করেছে। ৪৮ দশমিক ৭২ শতাংশ ঋণ নিয়েছে, ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ সঞ্চয়ের উপর নির্ভরশীল, ২৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ খাদ্য-ব্যয় কমিয়েছে, ২৭ শতাংশ তাদের খাদ্যতালিকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে এবং ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বন্ধু বা আত্মীয়ের কাছ থেকে অনুদান নিয়েছেন।

সান নিউজ/এসএ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

রাজধানীর বাজারে ছুটির আমেজ, মুরগির দামে ঝাঁজ, ডিমে মিলছে স্বস্তি

পূজার ছুটির আবহ এখনো কাটেনি রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে। অনেক স্থানে ক্রেতার উপস্...

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বই

মুখস্থনির্ভর পড়াশোনা থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভি...

আজ থেকে আগের সময়সূচিতে ফিরল মার্কেট ও শপিং মল

শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দোকানপাট ও শপিং মল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা...

বিচ কার্নিভালের উন্মাদনায় মুখর কুয়াকাটা

পূজার ছুটির রেশ কাটতে না কাটতেই কুয়াকাটায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী বিচ কার্নি...

১৫ নভেম্বর ‘অভিষেক’ ম্যাচে নামছেন ৪৬ বছরের রোনালদিনহো

অবসরের প্রায় এক যুগ পর আবারও পেশাদার ফুটবলের মাঠে ফিরছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্ত...

কাজের গতি কমাতে চান কৃতি শ্যানন

অভিনয় দক্ষতা, গ্ল্যামার, আকর্ষণীয় নাচ এবং নিখুঁত ফিটনেসের জাদুতে ভক্তদের হৃদয়...

বুরকিনা ফাসোর সামরিক সরকারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

এক নজরে বুরকিনা ফাসোর নতুন সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতি

চাঁদাবাজি শক্ত হাতে নির্মূলে দ্রুতই নতুন আইন হবে: আইজিপি

চাঁদাবাজি শক্ত হাতে নির্মূলে শিগগিরই নতুন আইন আসতে...

জর্ডনের গির্জায় মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ, অতর্কিত হামলায় মৃত্যু ৬ জনের!

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি উপাসনালয়ে সশস্ত্র হামলার...

সুন্দরবনে ৩ দিনে ঘুরে গেলেন ৩ হাজার পর্যটক

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গা...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা