আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আলোচনা সভা
জাতীয়

‘প্রজন্মের প্রার্থনা, শতায়ু হোন শেখ হাসিনা’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা আজ মা হারা, বাবা হারা, তিনি ভাই হারা। তিনি শুধু মাত্র একটি ছোট বোনকে নিয়ে সেই ১৯৭৫ সালের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য নিয়ে বেঁচেছিলেন।’

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর তৃতীয় দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আব্দুর রহমান বলেন, ‘১৯৭৫ সালে যে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল, সেটা কেবলমাত্র বঙ্গবন্ধু বা তার পরিবারকে হত্যার জন্য ছিল না। সেই হত্যাকাণ্ড ছিল একেবারেই সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই। সেই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছিল তারা।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধূ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে হত্যা করা হয়েছিল। বাংলাদেশের হৃদয়কে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছিল। বাংলাদেশের দেহ থেকে প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আমাদের চেতনা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই দিন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেইদিন প্রতিবাদ করার মতো কোনো পরিস্থিতি ছিল না। সেই দিন অন্ধকার ছিল।’

‘কিন্তু ১৯৮১ সালে শত বাঁধা উপেক্ষা করে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছিলেন শেখ হাসিনা। সেই দিন বিমানবন্দরে লাখ লাখ মানুষ স্লোগান দিয়েছিলেন। সেই দিন শেখ মুজিবের বেশে শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন। তিনি দেশে আসার পর ২১ বার তার জীবনের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। কিন্তু এসব আক্রমণ ও বিএনপি জামায়াতের যড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই বাংলাদেশকে পৃথিবীর কাছে তুলে ধরেছেন।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আজ সারা বিশ্বের কাছে অনুসরণীয়। শেখ হাসিনা মানেই গণতন্ত্রের বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা মানেই উন্নয়নের বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা মানেই জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ।’

গৌরব ৭১ আয়োজিত ‘প্রজন্মের প্রার্থনা, শতায়ু হোক শেখ হাসিনা’ স্লোগানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এস এম মনিরুল ইসলাম মনি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, ‘৭৪টি ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। ওই ছবিগুলোতে জননেত্রী শেখ হাসিনার খণ্ড খণ্ড চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তবে এমন কিছু ছবি এখানে তুলে ধরা হয়েছে; যেগুলো আগে কখনো জনসম্মূখে আসেনি। এই ছবিগুলোতে শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবন ও তার পারিবারিক জীবনের দৃশ্য ফুটে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের কাছে জননেত্রী শেখ হাসিনা শুধু একজন রাষ্ট্রনায়ক বা রাজনৈতিক নেতাই নন, তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে আশীর্বাদ এবং বাঙালি জাতির কাছে তিনি বাতিঘর। শেখ হাসিনা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে ‌অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আগামী ১০০ বছরের দেশ কোথায় যাবে, সেই পরিকল্পনাও শেখ হাসিনার মাথায় রয়েছে।’

শেখ হাসিনা একজন সফল মা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘তার দুই সন্তান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের কাছে তাদের যোগ্যতার কথা জানান দিয়েছেন। করোনাকালেও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে এ দেশের উন্নয়ন চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশে লোকচক্ষুর আড়ালে অনেক মেগা প্রকল্প চলমান। এছাড়াও তরুণ প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দিয়ে উদ্যোগ তৈরির কাজও করছেন।’

শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, ‘বার বার শেখ হাসিনার ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনো সাহস হারাননি। শেখ হাসিনার ভরসার জায়গা হলো আওয়ামী লীগ ও এ দেশের জনগণ।’

সকলকে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনাগুলো নিজেরা নিজের জায়গা থেকে বাস্তবায়ন করার আহবান জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা রহমান বলেন, ‘নারীমুক্তির জন্য যদি কেউ সত্যিকারের কাজ করে থাকেন, তিনি শেখ হাসিনা। তিনি এই শিক্ষা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার থেকেই পেয়েছিলেন। তিনি জানতেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অন্ধকারে রেখে কখনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি সেই ছাপ তৃণমুলের নারী থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদে রেখেছিলেন। সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৩৫ থেকে ৫০ এ উন্নীত করা তারই অবদান।’

‘নারী-পুরুষ যে হাতে হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে, নারীর সামাজিক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক মুক্তির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ শেখ হাসিনার প্রতি। তিনি বিশ্বাস করেন, আমাদের বাজেট যদি জেন্ডার সংবেদনশীল না হয়, তবে দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। আজকে দেশের সকল সেক্টরে নারী পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে কেবল তারই দূরদর্শী পরিকল্পনার কারণে। নারী ও শিশু মৃত্যুহার রোধ করতে কমিউনিটি ক্লিনিক উদ্যাোগটি দেশে-বিদেশে সমানভাবে সমাদৃত। দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশের চেয়ে বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে অনেকাংশেই এগিয়ে।’

সাবেক ছাত্রনেতা শাহিনুর রহমান টুটুল বলেন, ‘১৯৪৭ সালে নেত্রী যখন জন্মগ্রহণ করেন, তখন পিতা মুজিব ছিলেন জেলে, নিপীড়ন জেল জুলুম ছিল তার নিত্যদিনের সঙ্গী। বাবার মতোই মক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির কাছে অত্যাচারিত হয়ে নেত্রী উঠে এসেছেন বাঙালি জাতির মুক্তির শপথ নিয়ে। নিষ্পেষিত মানুষের ত্রাণকর্তা হিসেবে তিনি আর্বিভূত হয়েছিলেন, সেই সংগ্রাম তিনি এখনো অব্যাহত রেখেছেন।’

‘ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। জাতির কষ্ট বেদনা কাছ থেকে উপলব্ধি করেছেন। পঁচাত্তরের ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে সেই অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চেয়েছিল। একাশিতে নেত্রী দেশে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে জাতির মনে সাহস সঞ্চার করেছিলেন। সেই থেকে তিনি স্বৈরশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বাঙালির রাজনৈতিক অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ২১ বার মৃত্যুমুখে পতিত হয়েও দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন।’

সাবেক ছাত্রনেতা সুজাদুর রহমান সুজাত বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সময় থাকা প্রধানমন্ত্রী। তার আজকের এই অবস্থান একদিনের নয়, অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আল্লাহর অশেষ রহমতে এখনো তিনি দেশের হাল শক্ত হাতে ধরে রেখেছেন। ২০০৮ এ তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা পরিবর্তনে বিশ্বাস করি।’ তারই ধারাবাহিকতায় দেশ পরিবর্তন ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে।’

‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করলে, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখলে এদেশের উন্নতি কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’

দুপুরে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ইলিয়াস শরীফ এবং ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ।

সান নিউজ/এআর

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৫.৬ শতাংশ

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা...

বিশ্বমঞ্চে এবার বরেন্দ্রর খরা; জলবায়ু সুরক্ষায় উদ্যোগ নিতে চান মামুনুর

আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে য...

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাশের হারের সঙ্গে কমেছে জিপিএ

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে গত বছরে...

সাগর উত্তাল, বৈরী আবহাওয়ার কবলে দুবলারচরের জেলেরা

মৌসুমের শুরুতেই বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন দুবলারচর...

গাইবান্ধায় ধানক্ষেত থেকে আ.লীগ নেতা গ্রেফতার

গ্রেফতার এড়াতে ধানক্ষেতে আত্মগোপন করেও পুলিশের হাত...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা