২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুই ক্ষেত্রেই অবনতি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৪.১৫ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৪১৬ জন শিক্ষার্থী।
প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত বিভাগভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর মোট ২ হাজার ৩৯৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেননি। ফলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ২ হাজার ৩৭৭ জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ হাজার ২৩৮ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১৩৯ জন। সে হিসাবে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৪.১৫ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১৬ জন, যা অংশগ্রহণকারীদের ১৭.৫০ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৩১ জন। তাদের মধ্যে ১৮ জন অনুপস্থিত থাকায় পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ৮১৩ জন। এ বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৭০২ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১১১ জন। পাসের হার ৯৩.৮৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৩৩৩ জন, যা এ বিভাগে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ১৮.৩৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, মানবিক বিভাগে মোট ২৯১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ২৭৪ জন এবং ফেল করেছেন ১৭ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৯৪.১৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৮ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৯.৬২ শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ২৭৪ জন। তাদের মধ্যে একজন অনুপস্থিত থাকায় পরীক্ষায় অংশ নেন ২৭৩ জন। এ বিভাগে পাস করেছেন ২৬২ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১১ জন। পাসের হার ৯৫.৯৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৫ জন, যা পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ২০.১৫ শতাংশ।
গত বছরের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলে প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যে নিম্নমুখী প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২ হাজার ৫১৪ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে পাস করেছিলেন ২ হাজার ৪৩৪ জন। সে বছর পাসের হার ছিল ৯৭.৫৬ শতাংশ এবং অকৃতকার্য হয়েছিলেন ৮০ জন। পাশাপাশি জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৯৮৬ জন শিক্ষার্থী। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছিলেন ১ হাজার ৭৩৭ জন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পাসের হার কমেছে ৩.৪১ শতাংশ পয়েন্ট। অন্যদিকে, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫৭০ জন, যা প্রায় ৫৭.৮১ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ।
ফলাফলের এই অবনতি প্রসঙ্গে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেন, ‘আমরা যদি ফলাফলের দিকে তাকাই, ২০২৫ সালে আমাদের পাসের হার ছিল প্রায় ৯৮ শতাংশ। ২০২৬ সালে সেটি কমে ৯৪ শতাংশ হয়েছে। এই ফলাফলকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি অন্যের ওপর দায় চাপাতে চাই না। বরং নিজের দায়িত্বের জায়গা থেকে এই পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করতে চাই। শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার এই প্রচেষ্টা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।’
সান নিউজ/ রাব্বি