ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশ

সেতু নির্মাণে ৬ বছরের বিলম্ব, দুর্ভোগ চরম

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু ভেঙে পড়ার ছয় বছর পরও নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাত গ্রামের মানুষ। ভাঙা সেতুর স্থানে নির্মিত অস্থায়ী ভাসমান সেতু দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন পথচারী, কৃষক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে গামইরতলা ও মজিদপুরসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগ উন্নয়নের লক্ষ্যে পাখিমারা খালের ওপর একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করে। কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের কৃষকেরা এ সেতু ব্যবহার করে সহজেই কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেন। এছাড়া ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দাদেরও এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম।
দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরে ২০২০ সালের ২১ মার্চ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেটি খালে ভেঙে পড়ে। এরপর স্থানীয় উদ্যোগে কাঠ, বাঁশ ও প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে অস্থায়ী ভাসমান সেতু নির্মাণ করা হয়। সেই সেতুই গত ছয় বছর ধরে এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা।


সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাসমান সেতুটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এটি কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সবার জন্যই মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গামইরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এ সেতু পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে।

সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়া ও জোয়ারের সময় সেতুটি দোলনার মতো দুলতে থাকে। এতে প্রায়ই পথচারী ও শিক্ষার্থীরা খালে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অনেক সময় শিশুদের বই-খাতা পানিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে, ভিজে যাচ্ছে পোশাকও। বিদ্যালয়ের সামনে সেতুটি থাকায় শিশুরা সেখানে খেলতে গিয়েও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকে।

গামইরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বায়জিদ, তামান্না, ইকরাম হোসেন ও তাসমিয়া জানায়, বৃষ্টির দিনে বিদ্যালয়ে যেতে তাদের খুব ভয় লাগে। অনেক সহপাঠী সেতু পার হতে গিয়ে খালে পড়ে যায়। জোয়ারের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো: জহিরুল বলেন, প্রায় সাত গ্রামের মানুষ এ সেতু ব্যবহার করে। বহুবার নতুন সেতু নির্মাণের আশ্বাস পেলেও আজ পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

গামইরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পূর্ণিমা রানী বলেন,দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছোট শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছে। অনেক অভিভাবকও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা জরুরি।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

সান নিউজ/ রাব্বি

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

নারীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেপ্তার ৩

মুন্সীগঞ্জে এক নারীর অজ্ঞাতে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ক...

রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার না হলে নতুন শাসকও শেখ হাসিনা হয়ে উঠবেন: নাহিদ

রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক সংস্কার না হলে ক্ষমতায় যিনিই...

চাইলেই রাখতে পারতেন টাকা, সততার পথ বেছে নিলেন অটোচালক

অটোরিকশায় যাত্রীর ফেলে যাওয়া টাকাসহ ব্যাগ পেয়ে তা...

মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে যা বললেন তটিনী

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী অল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই দর্শক...

‘বিয়ে কবে?’ প্রশ্নে বিরক্ত সাফা কবির, জানালেন কেমন জীবনসঙ্গী চান

তাসনিয়া ফারিণ, সাবিলা নূর ও মেহজাবীন চৌধুরী—সমসাময়িক সময়ের জনপ্রিয় এই ত...

৬০০ গাড়ির লং মার্চ করে জনগণের ক্ষতি করছেন: খায়ের ভূঁইয়া

বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য ‘বট বাহিনী...

২৬ মাদক মামলার আসামি ফের ইয়াবাসহ আটক

কুড়িগ্রামের উলিপুরে রাতভর মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে...

উলিপুরে ভিশনস্প্রিং-এর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পরিবহন শ্রমিকদের চোখের স্ব...

রংপুর বিভাগের সেরা হয়ে জাতীয় পর্যায়ে উলিপুরের শাহীন আলম

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নজরুল বর্ষ উদয...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা