ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো উত্তাল হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মাঝে চলছে নানামুখী আলোচনা। এবারের এই সম্মানজনক পুরস্কার কার প্রাপ্য ছিল, তা নিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামালকে এগিয়ে রাখার পক্ষেও যুক্তির কমতি নেই।
তবে সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২৫ বছর দীর্ঘ এক খরা কাটিয়ে প্রথম কোনো ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের গোলমেশিন হ্যারি কেইন। আর এই ঐতিহাসিক অর্জনে তার দিকে প্রশংসার বন্যা বয়ে যাচ্ছে, যার মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ভারতের ক্রিকেট মহাতারকা বিরাট কোহলির পাঠানো এক আন্তরিক ও বন্ধুত্বের বার্তা।
ক্রিকেট ও ফুটবলের দুই ভিন্ন ভুবনের এই দুই তারকার যোগাযোগ বা বন্ধুত্বের কথা অনেকের কাছেই অজানা হলেও তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া বেশ গভীর। কোহলি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগের তুলনায় অনেক কম সময় কাটালেও নিজের প্রিয় বন্ধুর এই বিশাল সাফল্যে চুপ করে থাকতে পারেননি।
কেইনের দীর্ঘমেয়াদি লড়াই, নিরলস পরিশ্রম এবং খেলার প্রতি সততার ভূয়সী প্রশংসা করে ইনস্টাগ্রামে একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন ভারতীয় এই ব্যাটার। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সুদীর্ঘ সময় ধরে ফুটবলের সর্বোচ্চ চূড়ায় টিকে থাকতে কেইনকে যে মানসিক দৃঢ়তা ও হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়েছে, এই ট্রফি তার শতভাগ হকদার।
বন্ধুর এমন সাফল্যে নিজের আনন্দের কথা প্রকাশ করে কেইন এবং তার পুরো পরিবারের মঙ্গল কামনা করেছেন কোহলি। একই সঙ্গে কেইনের সুদীর্ঘ ও সংগ্রামমুখর ক্যারিয়ারের প্রতিটি পদক্ষেপে তার পাশে থাকার শুভকামনাও জানিয়েছেন তিনি।
সোনার ট্রফিটি হাতে পাওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইংলিশ স্ট্রাইকার। ফুটবল জীবনের একদম শুরুর দিকে ক্যারিয়ারের প্রথমভাগেই প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুঃসহ স্মৃতির কথা স্মরণ করেন তিনি। লন্ডনের মাটিতে দাঁড়িয়ে এমন একটি বিশ্বমানের পুরস্কার গ্রহণ করা তার কাছে অত্যন্ত আবেগঘন ও বিশেষ এক মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন কেইন।
বিচারকদের এই কঠিন লড়াইয়ে যারা তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন, সেই নির্বাচক প্যানেলের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি তিনি। তার মতে, এবারের প্রতিযোগিতায় যে সমস্ত বিশ্বমানের ফুটবলাররা লড়াইয়ে ছিলেন, তাদের মধ্য থেকে কাউকে বেছে নেওয়া ভোটারদের জন্য নিশ্চিতভাবেই বেশ কঠিন একটি কাজ ছিল।
নিজের সাফল্যের পেছনে বায়ার্ন মিউনিখের সতীর্থদের অবদানকে সোনার অক্ষরের মতো স্মরণ করেছেন এই তারকা স্ট্রাইকার। সতীর্থদের আক্রমণাত্মক মানসিকতা ও প্রতিদিনের অনুশীলনের লড়াই তাকে মাঠে নিজের সেরাটা দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে বলে তিনি মনে করেন।
এছাড়া দীর্ঘদিনের ঠিকানা টটেনহ্যাম হটস্পার ক্লাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে কেইন জানান যে, মাত্র এগারো বছর বয়স থেকে শুরু করে ক্লাবটির কোচ এবং কর্মকর্তাদের দেওয়া দিকনির্দেশনা না পেলে তিনি আজকের এই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারতেন না।
সবশেষে বায়ার্ন মিউনিখ, থ্রি লায়ন্স তথা ইংল্যান্ড দল এবং শৈশবের ক্লাব টটেনহ্যামের বিশ্বজোড়া সমর্থকদের অকুণ্ঠ ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজের ঐতিহাসিক এই জয় উৎসর্গ করেছেন হ্যারি কেইন।
সান নিউজ / রাজীব