সারাদেশ

চরফ্যাশনে দুপুরের মধ্যে  শিক্ষক-শিক্ষার্থীশূন্য স্কুল, ক্ষুব্ধ ইউএনও

ভোলা প্রতিনিধি

দুপুর গড়িয়ে প্রায় পৌনে ১টা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে তখন পাঠদানে ব্যস্ত থাকার কথা শিক্ষকদের, শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা শিক্ষার্থীদের। কিন্তু বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কেউই নেই। আরও বিস্ময়কর বিষয়, বিদ্যালয়ের চাবি রাখা হয়েছে প্রতিবেশীর বাড়িতে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে সরকারি এই বিদ্যালয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অভিভাবকেরা। অনেকেই সন্তানদের ভর্তি করেছেন পাশের মাদ্রাসায়।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মুজিবনগর ইউনিয়নের ১৮২ নম্বর সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখতে পান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ।

একই ইউনিয়নের চরলিউলিন বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকসহ আরও দুই শিক্ষক প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। তাঁরা রাজনীতিতে জড়িত থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।

সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি এবং বিদ্যালয়ের চাবি অন্যের কাছে রাখার ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ইউএনও রুমানা আফরোজ। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি পাঠদান কার্যক্রম ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়।

গত ২৬ অক্টোবর জারি করা চিঠিতে বলা হয়, ওই দিন দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে কোনো শিক্ষককে উপস্থিত পাননি। এ ঘটনায় আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) চাকরি বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধান উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির ঘটনায় বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবাব পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

ইউএনও রুমানা আফরোজ বলেন, আমি সোমবার মুজিবনগর ইউনিয়নের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছি। ১৮২ নম্বর সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে গিয়ে কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে পাইনি। বিদ্যালয়ের চাবি পাশের বাড়ির একজনের কাছে রাখা ছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকেও শিক্ষকদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসার অভিযোগ পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। সরকারি বিদ্যালয়ে এভাবে পাঠদান কার্যক্রম চলতে পারে না। শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এদিকে চরলিউলিন বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি চরলিউলিন বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও খতিয়ে দেখে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষার্থীরা ফিরে পাবে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ।

সাননিউজ/বান্না

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

নারীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেপ্তার ৩

মুন্সীগঞ্জে এক নারীর অজ্ঞাতে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ক...

রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার না হলে নতুন শাসকও শেখ হাসিনা হয়ে উঠবেন: নাহিদ

রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক সংস্কার না হলে ক্ষমতায় যিনিই...

চাইলেই রাখতে পারতেন টাকা, সততার পথ বেছে নিলেন অটোচালক

অটোরিকশায় যাত্রীর ফেলে যাওয়া টাকাসহ ব্যাগ পেয়ে তা...

নলকূপ বসানোর সময় মাটি থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন জ্বলে উঠলো

কক্সবাজারের উখিয়ায় নলকূপ (টিউবওয়েল) বসানোর জন্য মা...

মুন্সীগঞ্জে পাঁচ শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিক...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা