পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও বিভিন্ন দাবিতে চলমান আন্দোলনের পঞ্চম দিনেও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাভার ও আশুলিয়ার তৈরি পোশাকশিল্পাঞ্চল। আজ সোমবার সকাল থেকে শতাধিক কারখানার শ্রমিক সড়কে নেমে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত হয়েছেন শিল্প পুলিশের কয়েকজন সদস্যও।
এদিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় একটি পোশাক কারখানার কাভার্ডভ্যানে আগুন দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। শ্রমিক অসন্তোষ ও সংঘর্ষের কারণে সাভার ও আশুলিয়ার প্রায় ২৩০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
সোমবার সকাল ১০টার পর আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকেরা সড়কে নেমে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক দফা লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে আশুলিয়ায় প্রথমে অনন্ত গ্রুপের কারখানা এবং পরে হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে শ্রমিকেরা জড়ো হন। বিভিন্ন দাবিতে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নরসিংহপুরের নিউএজ কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি শেষে কারখানা থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।
সংঘর্ষ চলাকালে বেলা ১২টার দিকে নরসিংহপুরের নদী ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি পোশাক কারখানার কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সড়কের পাশের অধিকাংশ চালু পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের নিক্ষেপ করা ইটপাটকেলের আঘাতে শিল্প পুলিশ-১-এর এএসপি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহমেদ সামান্য আহত হন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। এ ঘটনায় পুলিশেরও বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।
দুপুর দেড়টা পর্যন্ত পুরো শিল্পাঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাভারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। তিনি বলেন, পতিত সরকারের দোসররা সাভার ও আশুলিয়ার পোশাকশিল্প খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। বহিরাগতরা শ্রমিকদের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে নাশকতা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে।
অন্যদিকে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বহিরাগতরা শ্রমিকদের কারখানা থেকে বেরিয়ে মহাসড়কে আসতে বাধ্য করছে। এতে শান্তিপ্রিয় শ্রমিকেরাও কারখানা ছেড়ে সড়কে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় দুপুর দেড়টার দিকে বাইপাইল এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তারা
শ্রমিক নাকি বহিরাগত, তা এখনো যাচাই করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিন ধরে সাভার ও আশুলিয়ার পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষোভ করে আসছেন।
সান নিউজ / সুরাইয়া