প্রধান ঘটনা: নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির কুইন্সের প্রবাসী হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে শারদোৎসবে অংশ নেওয়া সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি: নবরাত্রি, দুর্গাপূজা ও বিজয়াদশমীতে যোগ দিয়ে গরবা নাচ, দেবীর আরতি ও সিঁদুর খেলায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিরাপত্তা প্রসঙ্গ: গত ১১ অক্টোবর ইলিনয়ের একটি হিন্দু মন্দিরে হামলার ষড়যন্ত্র ও এক ব্যক্তির গ্রেপ্তারের পর ঘৃণা ও হিংসার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক ঐতিহাসিক পরিচিতি: নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম মেয়র; প্রখ্যাত নির্মাতা মীরা নায়ার ও অধ্যাপক মাহমুদ মামদানির সন্তান
মার্কিন মুলুকে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও নাশকতার ছক বানচালের রেশ কাটতে না কাটতেই অনন্য এক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। কুইন্সের প্রবাসী হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে শারদোৎসবের আনন্দে মেতে উঠে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, বৈচিত্র্যের মাঝেই এই শহরের আসল সৌন্দর্য।
নবরাত্রি, দুর্গাপূজা, দশাইন থেকে শুরু করে বিজয়াদশমী—উৎসবের এই পুরো সময়টিতে তিনি কেবল অতিথি হিসেবে নয়, বরং প্রবাসী সম্প্রদায়ের পরিবারের একজন হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।
উৎসবের রঙিন আমেজে নিউ ইয়র্কের মেয়রের উপস্থিতি ছিল বেশ প্রাণবন্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত। আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি পেরিয়ে তিনি পুরোপুরি মিশে যান ভারতীয় সংস্কৃতির গভীরে। এ সময় তাকে প্রথাগত গরবা নাচে অংশ নিতে দেখা যায়, দেবীর পরম ভক্তিভরে আরতিতে অংশ নেন তিনি এবং বাঙালি নারীদের ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলার সুন্দর মুহূর্তগুলোও প্রত্যক্ষ করেন।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শারদোৎসবের বেশ কিছু চমৎকার ছবি শেয়ার করে এক আবেগঘন বার্তা দেন মামদানি। তিনি উল্লেখ করেন, কুইন্সের হিন্দু ধর্মাবলম্বী নিউ ইয়র্কবাসীদের এই সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় উৎসবে সরাসরি শামিল হতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও ধন্য বোধ করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি উপাসনালয়ে ঘটে যাওয়া ভীতিকর পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মেয়র ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ডাক দেন। উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর ইলিনয়ের প্যালাটাইন এলাকার এক হিন্দু মন্দিরে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী হামলার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে আলেকজান্দ্রোস পাপোরাকিস নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সন্ত্রাসবাদের হুমকি দেওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টার পেছনের আতঙ্ক ও উদ্বেগের রেশ টেনে জোহরান মামদানি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে শহরের বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে আনন্দ, বিশ্বাস ও সম্প্রীতির অংশীদার হওয়া তার কাছে এক গভীর সম্মানের বিষয়।
পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের ঘৃণামূলক অপরাধের বিরুদ্ধে একসঙ্গে রুখে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি নিজের বার্তাটি শেষ করেন সনাতনী অভিবাদন—"জয় মাতা কি" বলে।
উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়া জোহরান মামদানির জন্য সর্বজনীন এই সংস্কৃতি ও উৎসব উদযাপনের ঘটনা নতুন কোনো বিষয় নয়।
এর আগে চলতি বছরের আগস্ট মাসেও তাকে নিউ ইয়র্কের দক্ষিণ এশীয় প্রবীণ নাগরিকদের একটি কেন্দ্রে গিয়ে পবিত্র রাখি বন্ধন উৎসবে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল। প্রখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার এবং উগান্ডার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক মাহমুদ মামদানির সন্তান জোহরানের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে হিন্দু ও মুসলিম—উভয় সংস্কৃতির সুগভীর প্রভাবে।
নিজের সেই পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক শিকড়ের টান থেকেই তিনি বরাবর বহুমিতিক সমাজব্যবস্থা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পক্ষে সোচ্চার থেকেছেন। কুইন্সের পূজামণ্ডপে তার এই প্রাণবন্ত ও উষ্ণ উপস্থিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিশাল ভারতীয় প্রবাসী সমাজের মনে গভীর স্বস্তি ও আস্থার এক নতুন বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
সান নিউজ / রাজীব